
তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের নির্বাচনী মাঠ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্ঘুম সময় পার করছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। প্রতিদিন দফায় দফায় সভা-সমাবেশ, মিছিল আর গণসংযোগে মুখর গোটা জনপদ। এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সাধারণ ভোটার ও মাঠের চিত্র বলছে-মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যেই।
আঞ্চলিক সমীকরণ ও মাঠের চিত্র সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনটি একসময় জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে তা আওয়ামী লীগের দখলে যায়। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও প্রচারণায় লাঙলের অবস্থান তুলনামূলক দুর্বল। এই সুযোগে মাঠ দখলে নিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত।
বিশেষ করে দুই প্রধান প্রার্থী দুই ভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় আঞ্চলিক সমীকরণ ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলছে। সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা ও বিএনপির মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক এবং পলাশবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (লেবু মাওলানা)—উভয়েই নিজ নিজ এলাকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ভোটারদের মুখে মুখে এখন ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার জয়গান।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে মাঠে গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে। তবে ট্রাক ও ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রচারণায় বেশ সক্রিয় রয়েছেন।
প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও আশাবাদ নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, “ভোটারদের ব্যাপক সাড়া দেখে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। নির্বাচিত হলে এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বেকারদের জন্য আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।”
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে সাদুল্লাপুর উপজেলা সদরে পৌরসভা গঠন করা হবে এবং দুই উপজেলাতেই সমানভাবে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করব।”
মাঠে আছেন আরও ৮ প্রার্থী প্রধান দুই দলের বাইরেও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও আটজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন—জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বী চৌধুরী (লাঙল), গণঅধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া (ট্রাক), স্বতন্ত্র এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি (ঘোড়া), স্বতন্ত্র আজিজার রহমান (ঢেঁকি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম আওলাদ হোসাইন (হাতপাখা), সিপিবির আব্দুল্লাহ আদিল (কাস্তে), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোছাদ্দিকুল ইসলাম (আপেল) এবং জনতার দলের মনজুরুল হক (কলম)।
ভোটের পরিসংখ্যান ও প্রস্তুতি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১ হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৬ জন, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মোট ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের ৯৫৮টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৫৬টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভোটের দিন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Reporter Name 
























