Dhaka ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ… ব্যবসায়ীর মুখোশে ভয়ংকর প্রতারণা: হাতিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার দেড় লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু নভেম্বরের মাঝামাঝিতে খাটের নিচে লুকোচুরি: মামী-ভাগ্নের কাণ্ডে পলাশবাড়িতে তুলকালাম মেসির উদাহরণ টেনে ইয়ামালকে সতর্ক করলেন সাবেক বার্সা তারকা তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসীদের ব্যাপক প্রস্তুতি রুশ ড্রোনের নিশানায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক সিআইএ প্রধান ? ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু হয়নি , ১৫ দিনের মধ্যে চালুর আল্টিমেটাম সার্ভার হ্যাক করে এনআইডি-সিডিআরসহ গোপন তথ্য সরবরাহ; যুবক গ্রেপ্তার জাভা সাগরে উল্টে গেল যাত্রীবাহী জাহাজ, ৬ জনের মৃত্যু—নিখোঁজ ১৩০

ঘোড়াঘাটে দাম্পত্য কলহের জেরে শিশু তাসপিয়াকে হত্যা: সৎবাবা গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৬ Time View

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার হওয়া শিশু মসফিয়া আক্তার তাসপিয়ার (৯) পরিচয় শনাক্তের পর তার সৎবাবা শাফিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের জেরে শিশুটিকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাফিউল ইসলাম ঘোড়াঘাট উপজেলার ভর্ণাপাড়া এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে তাসপিয়ার মা লিজা বেগমের সঙ্গে তার বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর লিজা শাফিউলকে বিয়ে করেন এবং ২০২৫ সালে শিশু তাসপিয়াকে দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে শিশুটিকে বাড়িতে রেখে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে যান এই দম্পতি। সেখানে লিজা পোশাক কারখানায় এবং শাফিউল রিকশা চালাতেন। তবে সংসারে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।

গত ৯ আগস্ট ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন শাফিউল। ১৪ আগস্ট তাসপিয়াকে রানীগঞ্জ জোবাইদা মহিলা মাদ্রাসায় রেখে আসেন। এরপর ১৬ আগস্ট (রোববার) বিকেলে ভর্তি সংক্রান্ত ছবি তোলার কথা বলে মাদ্রাসা থেকে তাসপিয়াকে বের করে আনেন তিনি।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে ঘোড়াঘাটের মুসিপাড়ার ঘাট এলাকা দিয়ে নৌকা নিয়ে করতোয়া নদীতে যান শাফিউল। নদীর মাঝামাঝি পৌঁছে তিনি তাসপিয়াকে পানিতে ফেলে দেন। কিছুক্ষণ পর অনুশোচনা হলে শিশুটিকে পানি থেকে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরে তীরে ফিরে আসেন। তবে তীরে পৌঁছার পর স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে তাসপিয়াকে আবারও নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরদিন সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৎবাবা শাফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নিহত শিশুর নিজের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

গণমাধ্যমের অন্দরমহলে নিঃশব্দ মৃত্যুমিছিল:কাল হয়তো আমরা কেউ…

ঘোড়াঘাটে দাম্পত্য কলহের জেরে শিশু তাসপিয়াকে হত্যা: সৎবাবা গ্রেপ্তার

Update Time : ০৫:০৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার হওয়া শিশু মসফিয়া আক্তার তাসপিয়ার (৯) পরিচয় শনাক্তের পর তার সৎবাবা শাফিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের জেরে শিশুটিকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাফিউল ইসলাম ঘোড়াঘাট উপজেলার ভর্ণাপাড়া এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে তাসপিয়ার মা লিজা বেগমের সঙ্গে তার বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর লিজা শাফিউলকে বিয়ে করেন এবং ২০২৫ সালে শিশু তাসপিয়াকে দ্বিতীয় স্বামীর সংসারে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে শিশুটিকে বাড়িতে রেখে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে যান এই দম্পতি। সেখানে লিজা পোশাক কারখানায় এবং শাফিউল রিকশা চালাতেন। তবে সংসারে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।

গত ৯ আগস্ট ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন শাফিউল। ১৪ আগস্ট তাসপিয়াকে রানীগঞ্জ জোবাইদা মহিলা মাদ্রাসায় রেখে আসেন। এরপর ১৬ আগস্ট (রোববার) বিকেলে ভর্তি সংক্রান্ত ছবি তোলার কথা বলে মাদ্রাসা থেকে তাসপিয়াকে বের করে আনেন তিনি।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে ঘোড়াঘাটের মুসিপাড়ার ঘাট এলাকা দিয়ে নৌকা নিয়ে করতোয়া নদীতে যান শাফিউল। নদীর মাঝামাঝি পৌঁছে তিনি তাসপিয়াকে পানিতে ফেলে দেন। কিছুক্ষণ পর অনুশোচনা হলে শিশুটিকে পানি থেকে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরে তীরে ফিরে আসেন। তবে তীরে পৌঁছার পর স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে তাসপিয়াকে আবারও নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরদিন সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৎবাবা শাফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নিহত শিশুর নিজের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।