
আলমগীর হোসেনঃ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। এ সময় তারা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ঢাকাথেকে আগত যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেছে। অভিযানে হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি গাড়ির কাগজ পত্র ও ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় ও ৩৯টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
রোববার (১ জুন) সকাল টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ঠাকুরগাঁও অস্থায়ী ক্যাম্পের ওয়ারেন্ট অফিসার আবু বক্করের নেতৃত্বে জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বর থেকে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরাও ছিল।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১১টায় শহরের বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বর থেকে শুরু করে সত্যপীর ব্রীজ, পল্লীবিদ্যুৎ, আটগ্যালারি, রোড সহ বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহনগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে চেক করছে। গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় বেশ কয়েকটি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
রাস্তায় সেনাবাহিনীর অভিযান দেখে খুশি স্থানীয় ও পথচারীরা। অভিযান ঘিরে উৎসুক সাধারণ মানুষ জানান, এ ধরনের অভিযান সব সময় হোক। তাহলে অপরাধ কমে আসবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যত বাড়বে, মানুষ তত শান্তিতে থাকতে পারবে।
কয়েকজন পথচারী বলেন, ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে, তাতে করে এভাবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অভিযান চলমান থাকলে অপরাধ কমবে।
মোটর সাইকেলের লাইসেন্স না থাকার ১০ হাজার টাকা জরিমানা খাওয়া প্রদীপ নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, জরুরি কাজে ভুল্লী গিয়েছিলাম। হেলমেট নিয়ে বের হইনি, তাই মামলা খেতে হয়েছে। সচরাচর সেনাবাহিনীর অভিযানে পড়তে হয়নি। তবে বিভিন্ন জায়গায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ অনেকটা কমে আসবে। সেনাবাহিনীর অভিযান সব সময় থাকা উচিত।
ঠাকুরগাঁও ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক সার্জেন্ট মোস্তাফিজার বলেন, সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানের অংশ হিসাবে আমরা সঙ্গে এসেছি। তারা গাড়ি থামিয়ে অবৈধ কোনও কিছু আছে কিনা এসব বিষয়ে তল্লাশি করছে। পাশাপাশি যেসব যানবাহন কাগজপত্র, চালকের লাইসেন্স কিংবা ট্রাফিক আইনের কোনও ক্রুটি রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়ে ওয়ারেন্ট অফিসার আবু বক্কর বলেন, কোরবানি ঈদ সামনে রেখে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আমরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করছি। অভিযানে মূলত ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তায় পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছি, যাতে মানুষের মধ্যে ভীতি দূর হয়।
এছাড়াও চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ অপরাধ তৎপরতা ঠেকাতেও সেনাবাহিনী কাজ করছে বলে জানান সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন গবাদিপশুর হাটগুলোতেও অভিযান পরিচালনা করেন সেনাবাহিনী।

Reporter Name 
























