Dhaka ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’ বগুড়ায় বিয়ের গেটে বকশিশের টাকা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩ নেপালে ধর্মীয় সহিংসতায় নিহত-৩, আহত-২৫, কারফিউ জারি খোলা বাজারে সরকারি বীজ বিক্রির দায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সাঁতরে পার হওয়ার সময় বাঙালি নদীতে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার সাঘাটায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বানে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

পলাশবাড়ীতে আবাদি জমির ‘টপ সয়েল’ বিক্রির মহোৎসব: হুমকিতে কৃষি ও গ্রামীণ জনপদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৪ Time View

পলাশবাড়ী প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান কাটার মৌসুম শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে আবাদি জমির মাটি বিক্রির এক অশুভ প্রতিযোগিতা। এক শ্রেণির অসাধু মাটি ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল)। এতে একদিকে যেমন চরম হুমকিতে পড়ছে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা, অন্যদিকে মাটিবাহী ভারী যানবাহনের দাপটে ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকদের সহজ-সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং অসচেতনতার ফাঁদে ফেলে নামমাত্র মূল্যে জমির মাটি কিনে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ভেকু মেশিন দিয়ে দিন-রাত কাটা হচ্ছে মাটি, যা চলে যাচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যার কোনো সরকারি অনুমোদন নেই।

কৃষি ও পরিবেশের বিপর্যয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরিভাগের ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি মাটিই (টপ সয়েল) ফসল উৎপাদনের প্রাণ। এই অংশ কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরা শক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যা পূরণে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি হবে।

অন্যদিকে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে নদীর তীর কেটে মাটি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নদী ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের হেনস্তার শিকার হতে হয়।

সড়ক ও জনজীবনের দুর্ভোগ মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাক্টর ও ট্রলি সংযুক্ত অবৈধ যান, যা স্থানীয়ভাবে ‘কাঁকড়া’ নামে পরিচিত। এসব ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন পাকা ও কাঁচা গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়ছে। রাস্তার বড় বড় অংশ ভেঙে সৃষ্টি হচ্ছে খানাখন্দ, যা সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

পবনাপুর ইউনিয়নের বরকতপুর গ্রামের চিত্র আরও ভয়াবহ। গ্রামের ভেতরে গড়ে ওঠা ইটভাটার কারণে সৃষ্ট ধুলাবালিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। এলাকাবাসী জানান, সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারকে মেরামতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

স্থানীয়দের দাবি ও প্রশাসনের আশ্বাস বরকতপুর গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা অবিলম্বে গ্রামের ভেতর থেকে পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটাটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের উদাসীনতাকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এখনই এই অবৈধ তৎপরতা বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা ও ফসলি জমি ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ইটভাটাটির বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পল্লীগীতির কণ্ঠশিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় ‘শোন গো রূপসী কন্যা’

পলাশবাড়ীতে আবাদি জমির ‘টপ সয়েল’ বিক্রির মহোৎসব: হুমকিতে কৃষি ও গ্রামীণ জনপদ

Update Time : ০৪:২২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

পলাশবাড়ী প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় আমন ধান কাটার মৌসুম শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে আবাদি জমির মাটি বিক্রির এক অশুভ প্রতিযোগিতা। এক শ্রেণির অসাধু মাটি ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল)। এতে একদিকে যেমন চরম হুমকিতে পড়ছে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা, অন্যদিকে মাটিবাহী ভারী যানবাহনের দাপটে ধ্বংস হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকদের সহজ-সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং অসচেতনতার ফাঁদে ফেলে নামমাত্র মূল্যে জমির মাটি কিনে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ভেকু মেশিন দিয়ে দিন-রাত কাটা হচ্ছে মাটি, যা চলে যাচ্ছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যার কোনো সরকারি অনুমোদন নেই।

কৃষি ও পরিবেশের বিপর্যয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরিভাগের ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি মাটিই (টপ সয়েল) ফসল উৎপাদনের প্রাণ। এই অংশ কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরা শক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যা পূরণে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি হবে।

অন্যদিকে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে নদীর তীর কেটে মাটি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নদী ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের হেনস্তার শিকার হতে হয়।

সড়ক ও জনজীবনের দুর্ভোগ মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাক্টর ও ট্রলি সংযুক্ত অবৈধ যান, যা স্থানীয়ভাবে ‘কাঁকড়া’ নামে পরিচিত। এসব ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন পাকা ও কাঁচা গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়ছে। রাস্তার বড় বড় অংশ ভেঙে সৃষ্টি হচ্ছে খানাখন্দ, যা সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

পবনাপুর ইউনিয়নের বরকতপুর গ্রামের চিত্র আরও ভয়াবহ। গ্রামের ভেতরে গড়ে ওঠা ইটভাটার কারণে সৃষ্ট ধুলাবালিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। এলাকাবাসী জানান, সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারকে মেরামতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

স্থানীয়দের দাবি ও প্রশাসনের আশ্বাস বরকতপুর গ্রামের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা অবিলম্বে গ্রামের ভেতর থেকে পরিবেশ দূষণকারী ইটভাটাটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের উদাসীনতাকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এখনই এই অবৈধ তৎপরতা বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা ও ফসলি জমি ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ইটভাটাটির বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”