
জাহিদ হোসেন ফিরোজ
সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবুর সম্পাদনায় আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত “উন্নয়ন ভাবনা প্রেক্ষিত: দ্বিতীয় যমুনা সেতু” বইটির সফট কপি হাতে পেলাম। প্রচ্ছদ ও গ্রন্থবিন্যাস করেছেন সাংবাদিক ও লেখক কায়সার রহমান রোমেল। নানা কারণে বইটি আমাকে পড়তে উৎসাহিত করেছে। বিশেষ করে এর দুটি শব্দ-“উন্নয়ন” ও “সেতু”-মস্তিষ্কের নিউরনে যেন বারবার অনুরণিত হতে লাগল। তবে ভাবনার কেন্দ্রে যখন যমুনা, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে-এই সেতু যমুনার বুকের ঠিক কোথায় হবে, কীভাবে হবে এবং এর সঙ্গে আমাদের উন্নয়ন-ভাবনার সম্পর্কই বা কী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই বইটির পাতায় চোখ রাখার আগ্রহ আরও বেড়ে গেল।
উন্নয়ন ভাবনা প্রেক্ষিত: দ্বিতীয় যমুনা সেতু গ্রন্থের সম্পাদকীয়তে ২৪ জন লেখক তাঁদের চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম পেশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এর পাশাপাশি, প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা নিয়ে ৩৭ জন বিশিষ্ট পেশাজীবীর মূল্যবান মন্তব্যও স্থান পেয়েছে এই গ্রন্থে।
গ্রন্থটি পাঠ করলে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা সেতু উপযুক্ত স্থানে বাস্তবায়নের জন্য ‘জাগো বাহে, কোনঠে সবাই’-এমন এক সম্মিলিত আহ্বানের প্রতিধ্বনি অনুভূত হয়। সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা, জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকার এবং উন্নয়ন ভাবনার জায়গা থেকেই যে এই মহৎ উদ্যোগের সূত্রপাত-তা গ্রন্থটির প্রতিটি লেখা ও মন্তব্যের মধ্য দিয়ে সহজেই উপলব্ধি করা যায়। এই প্রেক্ষাপটেই আমার লেখনির সূচনায় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি প্রয়াত সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিনকে। মরণোত্তর একুশে পদকপ্রাপ্ত এবং মফস্বল সাংবাদিকতার পথিকৃৎ মোনাজাতউদ্দিন ১৯৯৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়; সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থাতেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তখন শীতের আগমনী বার্তা শুরু হয়েছে। নদীর স্রোত ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার বুকে তৈরি হচ্ছে একাধিক চ্যানেল; নদীর বুকে খণ্ড খণ্ড অস্থায়ী চর জেগে উঠছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছিল বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাটের যাত্রীবাহী ফেরি চলাচল। সেই পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ও সংবাদ সংগ্রহ করতে মোনাজাতউদ্দিন ফেরির ছাদে উঠে পড়েন। ছবি তুলতে তুলতে হঠাৎ তিনি ছাদ থেকে পড়ে যান এবং মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন পত্রিকার পাতায় অন্যান্য পাঠকের মতো আমিও সেই সংবাদটি পড়েছিলাম। সংবাদটি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। আজ, ‘প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা সেতু: সমকালীন পাঠ ও কথামালা’-এর আলোচনায় মোনাজাতউদ্দিনকে তাই নতুন করে প্রাসঙ্গিক মনে হয়।
“উন্নয়ন ভাবনা প্রেক্ষিত: দ্বিতীয় যমুনা সেতু” গ্রন্থটির মূল শব্দ-‘উন্নয়ন’। উন্নয়ন বলতে আমি বুঝি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন, যা কোনোভাবেই এমন পরিবর্তন নয়, যার ফলাফল নেতিবাচক। জাতিসংঘের উন্নয়ন ভাবনার আলোকে, এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে হতে হবে টেকসই। আর টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক কল্যাণ এবং পরিবেশের সুরক্ষা-এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই “উন্নয়ন ভাবনা প্রেক্ষিত: দ্বিতীয় যমুনা সেতু” গ্রন্থে সম্মানিত ২৪ জন লেখকের সম্মিলিত ভাবনা, বক্তব্য ও বিশ্লেষণ পাঠ ও পর্যালোচনা করার চেষ্টা করেছি। তাঁদের লেখায় প্রতিফলিত উন্নয়ন-চিন্তাকে আমি প্রধানত তিনটি পথ- অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন- এর আলোকে দেখার প্রয়াস নিয়েছি। এই তিন পথের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিই নির্ধারণ করবে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা সেতু কেবল একটি যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হবে, নাকি এটি বৃহত্তর জনপদ, অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের সেতুবন্ধন হয়ে উঠবে।
গ্রন্থটির সূচনা যাঁর লেখায়, তিনি সবার পরিচিত- কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। দ্বিতীয় যমুনা সেতু কোথায় হবে- এই বিতর্কে না গিয়ে তিনি স্পষ্টভাবেই তাঁর লেখার শিরোনাম দিয়েছেন ‘বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতু উত্তরবঙ্গের আরেকটি স্বপ্ন’। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে এই সেতুর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির কথা। এ প্রসঙ্গে তিনি বর্তমান যমুনা সেতুর ইতিবাচক প্রভাবও তুলে ধরেছেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হিসেবে জিওমরফোলজির বিষয়টি তাঁর বিবেচনায় থাকলেও তাঁর প্রত্যাশা ও বক্তব্য স্পষ্ট: “যদি সমীক্ষা বলে, বালাসী-বাহাদুরাবাদ সেতু উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন, দেশের অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সংযোগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে, তাহলে এটিকে ব্যয় হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের প্রতি বাংলাদেশের আস্থা হিসেবে দেখা উচিত।”
আনিসুল হকের পরেই যাঁর লেখা, তিনি শিক্ষাবিদ, লেখক ও নদী-গবেষক তুহিন ওয়াদুদ। তাঁর লেখার শিরোনাম “উন্নয়নবৈষম্য দূরীকরণে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর স্থান নির্ধারণ”। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নবৈষম্য তিনি তথ্য, উপাত্ত ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখার মূলকথা- উন্নয়নবৈষম্য দূর করতে প্রয়োজন সাম্য বা Equity। দ্বিতীয় যমুনা সেতুর স্থান নির্বাচনে তিনি চিলমারী–সুন্দরগঞ্জ–ফুলছড়ি এলাকার সুবিধাজনক স্থান বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন।
‘দ্বিতীয় যমুনা সেতু কেন? কোথায় স্থাপন যৌক্তিক’ শিরোনামে লিখেছেন লেখক ও গবেষক জহুরুল কাইয়ুম। নদীর ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি প্রস্তাবিত দুটি স্থান বালাসী–বাহাদুরাবাদ ও সারিয়াকান্দি–মাদারগঞ্জ এর সম্ভাবনা তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পর্যালোচনা করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় বালাসী–বাহাদুরাবাদ এলাকাকেই দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য অধিকতর যৌক্তিক স্থান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
দ্বিতীয় যমুনা সেতুর জন্য বালাসী- বাহাদুরাবাদই উপযুক্ত স্থান -তথ্য, উপাত্ত ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছেন চর গবেষক, গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম। তাঁর বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ স্থানে সেতু নির্মিত হলে East–West Connectivity Corridor-এর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন দুয়ার খুলবে।
এরপর নীলিমা আখতার, সৈয়দ নুরুল আলম, ফরহাদ হোসেন নিয়ন, মোকছুদার-রহমান মাকসুদ, রেজা করিম, জুলফিকার চঞ্চল, গোলজার আহমেদ, উত্তম কুমার দেবগুপ্ত, দীপঙ্কর সাহা বাপ্পা, আশরাফুল আলম, ইব্রাহিম আকন্দ সেলিম, আফরোজা লুনা, রিকতু প্রাসাদ, মাহফুজ ফারুক, শাহ আলম যাদু, আবু সায়েম শান্ত প্রমুখ লেখক বালাসী–বাহাদুরাবাদকে ঘিরে তাঁদের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি, যুক্তি, বাস্তবতা ও জনস্বার্থের আলোকে তাঁরা বালাসী–বাহাদুরাবাদ স্থানেই দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতার কথা তুলে ধরেছেন।
‘স্বপ্নের দ্বিতীয় যমুনা সেতু- উত্তরবঙ্গের সঙ্গে পূর্ববঙ্গের সরাসরি সংযোগ’ শিরোনামে লিখেছেন ডা. মুসাভভির রহমান খান রিদিম। তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বর্তমানে যে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করছে, তাতে মূলত তিনটি রুট বিবেচনায় রয়েছে—গাইবান্ধা তিস্তামুখঘাট–বাহাদুরাবাদঘাট, বালাসীঘাট–বাহাদুরাবাদঘাট এবং সারিয়াকান্দি–মাদারগঞ্জ। তাঁর মতে, একটি মেগা প্রকল্পের রুট নির্ধারণে Cost-Benefit Ratio, Economic Internal Rate of Return (EIRR), Hydrological Morphology এবং Traffic Forecasting-এর মতো প্রকৌশলগত ও পরিমাপযোগ্য উপাত্তের যথাযথ বিশ্লেষণ অপরিহার্য।
‘পরিকল্পনার বাইরে বন্দী কোটি মানুষের স্বপ্ন—একটি সেতুর জন্য কত প্রজন্মের অপেক্ষা’ শিরোনামে লিখেছেন লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী কায়সার রহমান রোমেল। তিনি তিস্তামুখ ও বাহাদুরাবাদ ঘাটের ঐতিহাসিক রেলওয়ে ফেরি সার্ভিসের তথ্যের পাশাপাশি তুলে ধরেছেন মানুষের স্মৃতি ও সময়ের সাক্ষ্য। নদী, জনজীবন ও বিজ্ঞানের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, লেখায় তিনি তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। কেন বালাসী–বাহাদুরাবাদ রুটে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি যুক্তিসঙ্গত—সে প্রসঙ্গে তাঁর যুক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করতে তিনি বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামানের বক্তব্যও সংযুক্ত করেছেন।
ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বাবু, সদস্যসচিব, তিস্তামুখঘাট–বাহাদুরাবাদঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কমিটি, ‘রাষ্ট্রীয় নিয়মাবলী বনাম রাজনৈতিক বক্তব্য: দ্বিতীয় যমুনা সেতুর রুট ঘোষণা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা’ শিরোনামে প্রবন্ধটি লিখেছেন। এতে তিনি প্রস্তাবিত সেতুর রুট নির্ধারণে কারিগরি তথ্য, বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখার বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো- “সম্প্রতি বগুড়ার সারিয়াকান্দি- জামালপুরের মাদারগঞ্জ নৌরুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের বিষয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাহেবের বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কারিগরি তথ্য ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষাকে উপেক্ষা করে সস্তা রাজনৈতিক হাততালি পাওয়ার জন্য কোনো অবাস্তব সিদ্ধান্ত দেশের মেগা প্রজেক্টের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।”
সবশেষে, ‘প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা সেতু: সমকালীন পাঠ ও কথামালা’-তে আমার নিজের লেখা বই ‘জল ও জলাধার ভাবনার স্রোতধ্বনি’-এর উৎসর্গ পৃষ্ঠা থেকে কিছু কথা সংযোজন করছি। বইটি আমি দুজন মানুষকে উৎসর্গ করেছি। তাঁদের একজন পেশায় মাঝি। কোনো একদিন ফুলছড়ি–বাহাদুরাবাদ ফেরি পার হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। সেদিন তাঁর কাছ থেকেই যেন প্রথম হাইড্রোডাইনামিক্সের পাঠ নিয়েছিলাম—অভিজ্ঞতার পাঠ, নদীকে কাছ থেকে দেখার পাঠ। দ্বিতীয়জন বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। ২০০৭ সালের এক অভিজ্ঞতায় তাঁর নির্ভীকতা, সততা ও উদ্যোগ আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সে সময় বগুড়ায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছিল; কিন্তু এর পাশাপাশি কোথাও কোথাও পানি নিষ্কাশনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল। হঠাৎ বৃষ্টিতে শীতকালীন সবজি ডুবে যাওয়ার সেই বাস্তব চিত্র আমি উপজেলা পর্যায়ের একটি Public Consultation Meeting-এ প্রত্যক্ষ করেছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখিয়েছে—অবকাঠামো উন্নয়ন এলাকাভিত্তিক করা গেলেও পানি নিষ্কাশন এলাকাভিত্তিক নয়। পানি তার নিজস্ব প্রবাহপথ অনুসরণ করে; তাই ডাউনস্ট্রিম থেকে আপস্ট্রিম পর্যন্ত পুরো জলপ্রবাহকে বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা করতে হয়। বগুড়ার পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রেও এর নিম্নপ্রবাহের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের সম্পর্ক রয়েছে। তাই একটি সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার পরিকল্পনা ও নকশায় হাইড্রোলজি, হাইড্রোডাইনামিক্স এবং অন্যান্য প্রকৌশলগত বিষয়ের পাশাপাশি জিওমরফোলজি-কেও যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
তবে উন্নয়ন কেবল প্রকৌশল বা অর্থনীতির হিসাব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক ন্যায্যতা, আঞ্চলিক সমতা এবং প্রান্তিক মানুষের জীবন ও আকাঙ্ক্ষা। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তাঁদের কথাও শুনতে হবে। বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রান্তিক মানুষের সেই কথাগুলো পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
এ জন্য প্রয়োজন হেদায়েতুল ইসলাম বাবুর সম্পাদনায় প্রকাশিত “উন্নয়ন ভাবনা প্রেক্ষিত: দ্বিতীয় যমুনা সেতু” এর মতো গ্রন্থ। ভবিষ্যতে এটি আরও বিস্তৃত হতে পারে অন্য রুপে—সেমিনার, টকশো, সংবাদপত্রে লেখালেখি কিংবা জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে। কারণ একটি সেতু শুধু নদীর দুই পাড়কে যুক্ত করে না; সঠিক পরিকল্পনা ও ন্যায়সংগত উন্নয়নের মাধ্যমে এটি মানুষ, জনপদ, অর্থনীতি ও সম্ভাবনার মধ্যেও সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে।
লেখক: জাহিদ হোসেন ফিরোজ, প্রকৌশলী, লেখক ও গবেষক

Reporter Name 


















