Dhaka ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি লাওসে এশিয়া ন্যাশনাল ওয়াটার কনসালটেটিভ মিটিংয়ে এমপি মিলন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে: এমপি মমতাজ আলো আড়াই বছর ধরে আটকে গাইবান্ধার ৯ সেতুর কাজ, ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় দুর্ভোগে মানুষ ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত নিরাপদ নওগাঁ গঠনে শিক্ষার্থীদের সাথে র‍্যাবের মতবিনিময় সভা অভিভাবকের উদাসীনতাই তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয়ের জন্য দায়ী? এবার সয়াবিন তেলে মিলল বিপুল পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

বঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন: ধীরচলো নীতিতে সরকার, সর্বাগ্রে ফখরুলের নাম

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৪৫ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের বিষয়ে আপাতত কোনো তাড়াহুড়ো করছে না সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও আগামী সেপ্টেম্বরে আয়োজিত জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা চলছে। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। গত ১৫ জুলাই সংসদের সবশেষ অধিবেশন শেষ হওয়ায় ৬০ দিনের আইনি বাধ্যবাধকতা বজায় রেখে সেপ্টেম্বর মাসেই আবার সংসদ বসছে। বিশেষ কোনো অধিবেশন ছাড়াই এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করা সম্ভব বলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সংবিধানের সম্ভাব্য সংশোধন। আগামী অধিবেশনে সংবিধানের ‘অষ্টাদশ সংশোধনী বিল’ আনার প্রস্তুতি চলছে, যেখানে জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান আলংকারিক পদের তুলনায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা স্পষ্ট হওয়ার পরেই উপযুক্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চায় বিএনপির শীর্ষ নীতিনির্ধারণী মহল।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হলেও প্রার্থী দলীয় নাকি অদলীয় হবেন, তা নিয়ে চলছে সূক্ষ্ম রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ। দলীয় প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে দল পরিচালনা, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সার্বজনীন রাজনৈতিক ভাবমূর্তির কারণে তিনি প্রথম পছন্দের তালিকায় আছেন। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ অনেকেই তাঁকে বঙ্গভবনের জন্য উপযুক্ত হিসেবে মত প্রকাশ করেছেন। তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দল ও সরকারে নতুন পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন পড়বে। তাঁকে মন্ত্রিত্ব ও মহাসচিবের পদ ছাড়তে হবে এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের সম্মুখীন হতে হবে, যা নতুন সরকারের শুরুর দিকে একটি বড় সিদ্ধান্ত।

মির্জা ফখরুলের বাইরে বিএনপির প্রবীণ নেতাদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও গুঞ্জনে রয়েছে। এমনকি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকেও একটি বড় বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। অপরদিকে রাজনীতির বাইরে থেকে কাউকে আনার সিদ্ধান্ত হলে সাবেক এক প্রধান বিচারপতির নাম বিবেচনায় রয়েছে, তবে পূর্বে নাম আসা সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সম্ভাবনা এখন অনেকটাই ক্ষীণ। শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো।

মির্জা ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংবিধান ও আইন মেনে স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই চূড়ান্ত প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতই মুখ্য ভূমিকা রাখবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতির পরিচয় স্পষ্ট হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাঘাটায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

বঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন: ধীরচলো নীতিতে সরকার, সর্বাগ্রে ফখরুলের নাম

Update Time : ১০:০২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের বিষয়ে আপাতত কোনো তাড়াহুড়ো করছে না সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও আগামী সেপ্টেম্বরে আয়োজিত জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা চলছে। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। গত ১৫ জুলাই সংসদের সবশেষ অধিবেশন শেষ হওয়ায় ৬০ দিনের আইনি বাধ্যবাধকতা বজায় রেখে সেপ্টেম্বর মাসেই আবার সংসদ বসছে। বিশেষ কোনো অধিবেশন ছাড়াই এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করা সম্ভব বলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সংবিধানের সম্ভাব্য সংশোধন। আগামী অধিবেশনে সংবিধানের ‘অষ্টাদশ সংশোধনী বিল’ আনার প্রস্তুতি চলছে, যেখানে জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান আলংকারিক পদের তুলনায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা স্পষ্ট হওয়ার পরেই উপযুক্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চায় বিএনপির শীর্ষ নীতিনির্ধারণী মহল।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হলেও প্রার্থী দলীয় নাকি অদলীয় হবেন, তা নিয়ে চলছে সূক্ষ্ম রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ। দলীয় প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে দল পরিচালনা, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সার্বজনীন রাজনৈতিক ভাবমূর্তির কারণে তিনি প্রথম পছন্দের তালিকায় আছেন। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ অনেকেই তাঁকে বঙ্গভবনের জন্য উপযুক্ত হিসেবে মত প্রকাশ করেছেন। তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দল ও সরকারে নতুন পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন পড়বে। তাঁকে মন্ত্রিত্ব ও মহাসচিবের পদ ছাড়তে হবে এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের সম্মুখীন হতে হবে, যা নতুন সরকারের শুরুর দিকে একটি বড় সিদ্ধান্ত।

মির্জা ফখরুলের বাইরে বিএনপির প্রবীণ নেতাদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও গুঞ্জনে রয়েছে। এমনকি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকেও একটি বড় বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। অপরদিকে রাজনীতির বাইরে থেকে কাউকে আনার সিদ্ধান্ত হলে সাবেক এক প্রধান বিচারপতির নাম বিবেচনায় রয়েছে, তবে পূর্বে নাম আসা সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সম্ভাবনা এখন অনেকটাই ক্ষীণ। শেষ পর্যন্ত রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো।

মির্জা ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংবিধান ও আইন মেনে স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই চূড়ান্ত প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতই মুখ্য ভূমিকা রাখবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতির পরিচয় স্পষ্ট হবে।