Dhaka ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর নলকূপ আছে, পানি নেই দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত নওগাঁর হাজারো কৃষক ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি সাঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সাথে এমপি মমতাজের মতবিনিময় সভা পাকিস্তানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: শতাধিক প্রাণহানি, ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নিষিদ্ধ নেইমার: গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামছে সান্তোস পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি: ধর্মীয় স্থাপনায় হামলায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, শান্তির আহ্বান গাইবান্ধায় সাবেক সেনা সদস্যের সংবাদ সম্মেলন: জমি বিক্রি ও স্ত্রীর অপপ্রচারের প্রতিবাদ আজ কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী আবদুল আলীমের জন্মদিন ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ইরানের

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে চিলমারীকে রক্ষা ও চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের আহ্বান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫৪ Time View

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন চিলমারী ইউনিয়নকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে চিলমারী উপজেলার বিশারপাড়া নদীভাঙন এলাকায় সহস্রাধিক ভাঙন কবলিত মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা এবং চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার, জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন আহমেদ রিন্টু, চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আবু হানিফা, সদস্যসচিব সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, সোনালী অতীত ফুটবল ক্লাব কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম কাজী, নারীনেত্রী শাহনাজ সুলতানা এবং নদীভাঙনের শিকার আছির উদ্দিন ও শাহজাহান আলীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙনে প্রতি বছর চিলমারী উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ছেন হাজারো মানুষ। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদ-নদীর অন্তত ৪২টি স্থানে বর্তমানে নদীভাঙন চলছে। গত ১০ বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে নতুন ঠিকানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান কোনো সরকারি দপ্তরের কাছে নেই।

তিনি বলেন, বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার মানুষ শুধু জমিজমা হারাচ্ছেন না, হারাচ্ছেন তাঁদের শৈশব, স্মৃতি ও সামাজিক বন্ধনও। অনেক পরিবার এখনো জানে না, বন্যার সময় তারা কোথায় আশ্রয় নেবে কিংবা গবাদিপশু ও শিশু সন্তানদের কোথায় নিরাপদে রাখবে।

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস, কানাডা, ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়ায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সে ধরনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

তিনি দাবি করেন, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১শ’ টি উপজেলার দুই কোটিরও বেশি মানুষ নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের নানা সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা প্রয়োজন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, চরের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন কখনোই টেকসই হবে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে চিলমারীকে রক্ষা ও চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের আহ্বান

Update Time : ০৬:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন চিলমারী ইউনিয়নকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে চিলমারী উপজেলার বিশারপাড়া নদীভাঙন এলাকায় সহস্রাধিক ভাঙন কবলিত মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা এবং চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার, জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন আহমেদ রিন্টু, চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আবু হানিফা, সদস্যসচিব সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, সোনালী অতীত ফুটবল ক্লাব কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম কাজী, নারীনেত্রী শাহনাজ সুলতানা এবং নদীভাঙনের শিকার আছির উদ্দিন ও শাহজাহান আলীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙনে প্রতি বছর চিলমারী উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ছেন হাজারো মানুষ। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদ-নদীর অন্তত ৪২টি স্থানে বর্তমানে নদীভাঙন চলছে। গত ১০ বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে নতুন ঠিকানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান কোনো সরকারি দপ্তরের কাছে নেই।

তিনি বলেন, বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার মানুষ শুধু জমিজমা হারাচ্ছেন না, হারাচ্ছেন তাঁদের শৈশব, স্মৃতি ও সামাজিক বন্ধনও। অনেক পরিবার এখনো জানে না, বন্যার সময় তারা কোথায় আশ্রয় নেবে কিংবা গবাদিপশু ও শিশু সন্তানদের কোথায় নিরাপদে রাখবে।

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস, কানাডা, ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়ায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সে ধরনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

তিনি দাবি করেন, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১শ’ টি উপজেলার দুই কোটিরও বেশি মানুষ নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের নানা সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা প্রয়োজন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, চরের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন কখনোই টেকসই হবে না।