Dhaka ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দামে নতুন চাপের আশঙ্কা ঠাকুরগাঁওয়ে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা অনিশ্চয়তার অবসান: নওগাঁয় এমপি ধলুর অর্থায়নে পাকা ঘর পেল দুই অসহায় পরিবার ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ারের মনোনয়ন সংগ্রহ মেধা ও স্বপ্নের পাশে গাইবান্ধায় শিক্ষাবৃত্তি ও কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কথা জানালেন উপহাইকমিশনার গাইবান্ধায় ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া ১৩ মাসের শিশু উদ্ধার, বাবাসহ গ্রেফতার ৪ মেসির শেষ ম্যাচ নিয়ে কী বললেন দি মারিয়া? ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির সাংগঠনিক সভা  জ্বালানি তেলের দামে বড় ধাক্কা, লিটারে বাড়ল ২০ টাকা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চোখ’ ধ্বংস! নজরদারি সক্ষমতায় বড় সংকট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ১৫৯ Time View

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট:

সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ রাডার বিমান ধ্বংস হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে দূর থেকে ইরানের হুমকি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মার্কিন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণ করা ছবিতে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া বিমানটির লেজ ভেঙে গেছে এবং এর ওপর থাকা বিশেষ গোলাকার রাডারটি মাটিতে পড়ে আছে। আকাশপথের আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (এডব্লিউএসিএস) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই রাডার। ঘটনাটি ঘটেছে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে।

সাবেক মার্কিন কর্নেল সেড্রিক লেইটন বলেন, বিশেষ এই রাডার বিমান ধ্বংস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতার জন্য একটি বড় আঘাত। এর ফলে মার্কিন যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ করা এবং শত্রুবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে সেগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এই রাডার বিমানগুলো দশকের পর দশক ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে আসছে। এটি আকাশ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে নজরদারি চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন ১৭টি বিমান রয়েছে, যা তাদের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি ভিত্তি।

গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংস হওয়া বিমানটির ছবি ছড়িয়ে পড়ে। স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে মিলিয়ে সিএনএন নিশ্চিত করেছে যে, হামলাটি সৌদি আরবের ওই বিমানঘাঁটিতেই হয়েছে। এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

কয়েকটি দেশে সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন চালানোর মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের সবশেষ বাজেট ২৭১ বিলিয়ন (২৭ হাজার ১০০ কোটি) ডলার, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই বিশাল বাজেট থেকেই স্পষ্ট যে, ইসরায়েল বিভিন্ন ফ্রন্টে অনেকগুলো যুদ্ধ একযোগে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

অধ্যাপক এলমাসরি বলেন, “ঐতিহাসিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের বিশাল সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। যুদ্ধের সময় এই সহায়তার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।”

তবে এই বিশ্লেষক মনে করেন, ইসরায়েলের ভেতরে হয়তো এখন এমন একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টাচ্ছে। এখন অনেক মার্কিন নাগরিক শুধু ইসরায়েলের সমালোচনাই করছেন না, বরং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সমর্থনেরও জোরালো বিরোধিতা করছেন।

এলমাসরি আরও বলেন, রেকর্ড পরিমাণ এই বাজেট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েল মোটেও মনে করে না তারা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে আছে। বরং তারা হয়তো যুদ্ধের মাঝপথে বা শুরুর কাছাকাছি অবস্থানেই রয়েছে।

তার মতে, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তার মূল লক্ষ্য হলো ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দামে নতুন চাপের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চোখ’ ধ্বংস! নজরদারি সক্ষমতায় বড় সংকট

Update Time : ০৩:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট:

সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ রাডার বিমান ধ্বংস হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে দূর থেকে ইরানের হুমকি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মার্কিন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণ করা ছবিতে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া বিমানটির লেজ ভেঙে গেছে এবং এর ওপর থাকা বিশেষ গোলাকার রাডারটি মাটিতে পড়ে আছে। আকাশপথের আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (এডব্লিউএসিএস) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই রাডার। ঘটনাটি ঘটেছে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে।

সাবেক মার্কিন কর্নেল সেড্রিক লেইটন বলেন, বিশেষ এই রাডার বিমান ধ্বংস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতার জন্য একটি বড় আঘাত। এর ফলে মার্কিন যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ করা এবং শত্রুবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে সেগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এই রাডার বিমানগুলো দশকের পর দশক ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে আসছে। এটি আকাশ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে নজরদারি চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন ১৭টি বিমান রয়েছে, যা তাদের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি ভিত্তি।

গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংস হওয়া বিমানটির ছবি ছড়িয়ে পড়ে। স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে মিলিয়ে সিএনএন নিশ্চিত করেছে যে, হামলাটি সৌদি আরবের ওই বিমানঘাঁটিতেই হয়েছে। এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

কয়েকটি দেশে সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন চালানোর মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি এ কথা বলেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের সবশেষ বাজেট ২৭১ বিলিয়ন (২৭ হাজার ১০০ কোটি) ডলার, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই বিশাল বাজেট থেকেই স্পষ্ট যে, ইসরায়েল বিভিন্ন ফ্রন্টে অনেকগুলো যুদ্ধ একযোগে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

অধ্যাপক এলমাসরি বলেন, “ঐতিহাসিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের বিশাল সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। যুদ্ধের সময় এই সহায়তার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।”

তবে এই বিশ্লেষক মনে করেন, ইসরায়েলের ভেতরে হয়তো এখন এমন একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টাচ্ছে। এখন অনেক মার্কিন নাগরিক শুধু ইসরায়েলের সমালোচনাই করছেন না, বরং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সমর্থনেরও জোরালো বিরোধিতা করছেন।

এলমাসরি আরও বলেন, রেকর্ড পরিমাণ এই বাজেট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েল মোটেও মনে করে না তারা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে আছে। বরং তারা হয়তো যুদ্ধের মাঝপথে বা শুরুর কাছাকাছি অবস্থানেই রয়েছে।

তার মতে, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তার মূল লক্ষ্য হলো ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।