Dhaka ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
 ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির জালে জব্বার সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ আব্বাসউদ্দীনের জন্মবার্ষিকীতে ভাওয়াইয়া আসর: ও মোর কালারে কালা পঞ্চগড়ের আকাশে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘ সরতেই ধরা দিল হিমালয়ের রূপালি মুকুট ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে ১১ ও হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু দিনাজপুরকে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা জিডি নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, অপপ্রচারের অভিযোগ খেলতে গিয়ে ডোবার পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনার ভাঙচুর, অভিযুক্ত প্রশিক্ষক পলাতক

শ্বাশুড়ির জায়গায় থাকি, ছেলে বেঁচে থাকলে নিজের বাড়িভিটা হতো: শহীদ নাজমুলের মা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ১৫৪ Time View

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা): ‘‘আমার রিকশা চালক স্বামী অনেক আগে মারা গেছেন। একমাত্র ছেলে নাজমুল মিয়াকে (২৩) নিয়ে শ্বাশুড়ির বাড়িতে থাকি। নিজের বাড়িভিটা করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করছিলো নাজমুল। এরই মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন নাজমুল। আমার এই ছেলেটি বেঁচে থাকলে নিজস্ব বাড়িভিটা হতো। আমাকে যদি সরকারের পক্ষ থেকে ঘরবাড়ি করে দিতো তাহলে হয়তো ছেলের সেই স্বপ্ন পূরণ হতো ‘’ এভাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বললেন চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নাজমুল মিয়ার মা গোলেভান বেওয়া।

সম্প্রতি সরেজমিনে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ছেলেহারানোর শোক আর মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে দুশ্চিন্তায় যেনো আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠছে গোলেভানের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতিদরিদ্র পরিবারের একমাত্র ছেলে নাজমুল হাসান। তার রিকশাচালক বাবা হাইদুল ইসলাম অনেক আগে মারা গেছেন। সেই থেকে মা গোলেভান বেওয়া আর ছোট দুই বোন হিরা মনি ও আয়শা খাতুনকে নিয়ে সংসারের হাল ধরেন নাজমুল। জীবিকার তাগিদে ঢাকার আশুলিয়া এলাকার সিয়াম গার্মেন্টসে চাকরি করছিলেন। এরই মধ্যে চব্বিশে সারাদেশ যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে উত্তাল, তখন নাজমুল মিয়াও এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন। সেই গুলি ঢোকে তার পেটের ডান পাশ দিয়ে। এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগষ্ট সন্ধ্যার পর মারা যায় নাজমুল। এরপর ধারদেনা করে তার লাশ
গ্রাামের বাড়িতে আনা হয়। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারি
মাসে সেই কবর থেকে শহীদ নাজমুলের লাশ উত্তোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন। এসময় স্থানীয়দের বাধার মুখে লাশ তুলতে ব্যর্থ হয়
প্রশাসন মহল।

শহীদ নাজমুল হাসানের বোনজামাই আব্দুল মজিদ মিয়া বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে ভাইটির মৃত্যুর পর শ্বাশুড়ি তার অস্থায়ী বাড়িতে একা হয়ে পড়েন। তাকে কিছুটা সহযোগিতা করতে তখন থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এ বাড়িতে বসবাস করছি। শহীদ নাজমুল হাসানের মা গোলেভান বেগম কান্নাজড়িত
কণ্ঠে বলেন, আমরা গরীব মানুষ। নেই বসত ভিটা। দাদী শ্বাশুড়ি রাহেলা বেওয়ার জায়গায় টিনসেড ঘর তুলে বসবাস করছি। সেখানেও নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

গাইবান্ধা জুলাই যোদ্ধা সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের শহীদ নাজমুল হাসানের পরিবারে সহযোগিতা করাসহ খোঁজখঁবর নেওয়া হচ্ছে। আমরা সকল যোদ্ধাদের পাশে আছি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ নাজমুল মিয়ার পরিবারের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

 ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির জালে জব্বার

শ্বাশুড়ির জায়গায় থাকি, ছেলে বেঁচে থাকলে নিজের বাড়িভিটা হতো: শহীদ নাজমুলের মা

Update Time : ০৩:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা): ‘‘আমার রিকশা চালক স্বামী অনেক আগে মারা গেছেন। একমাত্র ছেলে নাজমুল মিয়াকে (২৩) নিয়ে শ্বাশুড়ির বাড়িতে থাকি। নিজের বাড়িভিটা করার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করছিলো নাজমুল। এরই মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন নাজমুল। আমার এই ছেলেটি বেঁচে থাকলে নিজস্ব বাড়িভিটা হতো। আমাকে যদি সরকারের পক্ষ থেকে ঘরবাড়ি করে দিতো তাহলে হয়তো ছেলের সেই স্বপ্ন পূরণ হতো ‘’ এভাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বললেন চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নাজমুল মিয়ার মা গোলেভান বেওয়া।

সম্প্রতি সরেজমিনে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ছেলেহারানোর শোক আর মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে দুশ্চিন্তায় যেনো আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠছে গোলেভানের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতিদরিদ্র পরিবারের একমাত্র ছেলে নাজমুল হাসান। তার রিকশাচালক বাবা হাইদুল ইসলাম অনেক আগে মারা গেছেন। সেই থেকে মা গোলেভান বেওয়া আর ছোট দুই বোন হিরা মনি ও আয়শা খাতুনকে নিয়ে সংসারের হাল ধরেন নাজমুল। জীবিকার তাগিদে ঢাকার আশুলিয়া এলাকার সিয়াম গার্মেন্টসে চাকরি করছিলেন। এরই মধ্যে চব্বিশে সারাদেশ যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে উত্তাল, তখন নাজমুল মিয়াও এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন। সেই গুলি ঢোকে তার পেটের ডান পাশ দিয়ে। এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগষ্ট সন্ধ্যার পর মারা যায় নাজমুল। এরপর ধারদেনা করে তার লাশ
গ্রাামের বাড়িতে আনা হয়। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারি
মাসে সেই কবর থেকে শহীদ নাজমুলের লাশ উত্তোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয় প্রশাসন। এসময় স্থানীয়দের বাধার মুখে লাশ তুলতে ব্যর্থ হয়
প্রশাসন মহল।

শহীদ নাজমুল হাসানের বোনজামাই আব্দুল মজিদ মিয়া বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে ভাইটির মৃত্যুর পর শ্বাশুড়ি তার অস্থায়ী বাড়িতে একা হয়ে পড়েন। তাকে কিছুটা সহযোগিতা করতে তখন থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এ বাড়িতে বসবাস করছি। শহীদ নাজমুল হাসানের মা গোলেভান বেগম কান্নাজড়িত
কণ্ঠে বলেন, আমরা গরীব মানুষ। নেই বসত ভিটা। দাদী শ্বাশুড়ি রাহেলা বেওয়ার জায়গায় টিনসেড ঘর তুলে বসবাস করছি। সেখানেও নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

গাইবান্ধা জুলাই যোদ্ধা সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের শহীদ নাজমুল হাসানের পরিবারে সহযোগিতা করাসহ খোঁজখঁবর নেওয়া হচ্ছে। আমরা সকল যোদ্ধাদের পাশে আছি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ নাজমুল মিয়ার পরিবারের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।