Dhaka ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কৃষকের সন্তান থেকে চিকিৎসক হওয়ার পথে শাকিল শনিবার দেশে ফিরছে ৫ প্রবাসীর লাশ, শোকের মাঝেও ঋণের চাপ সাঘাটায় অবৈধ বালু মজুদে জরিমানা করায় এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সাঘাটায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সহস্রাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৬ বামনডাঙ্গা জনতা ব্যাংকে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ গাইবান্ধায় টেলিভিশন রিপোর্টিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোবিন্দগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির জালে জব্বার সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ

সাঘাটায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে মা-মেয়েকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টার, সাঘাটা :

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বাজিতনগর গ্রামে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে শাহানাজ বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে শাহানাজ বেগম ও তাঁর মেয়ের ওপর দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। প্রথম দফায় শাহানাজের মাথায় ছুরিকাঘাত ও পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় তাঁর মেয়েকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এসব ঘটনায় সাঘাটা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে (মামলা নং ৩১, তারিখ: ২৯ জুন ২০২৬ এবং মামলা নং ১৩, তারিখ: ১৫ আগস্ট ২০২৬)।

মামলার বাদী পক্ষের দাবি, আদালত থেকে জামিন না নিয়েই প্রধান অভিযুক্ত রোস্তম আলী আকন্দ এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা এবং আসামিদের গ্রেফতারে অনীহার কারণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার খরচ তোলার অজুহাতে রোস্তম আলীর লোকজন শাহানাজের বাড়ি থেকে হাঁস-মুরগি, ছাগল, সেচপাম্পের মোটর, টিউবওয়েল এবং বিদ্যুৎ সংযোগের তার পর্যন্ত লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আরও একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া শাহানাজ ও তাঁর ভগ্নিপতি মঞ্জুর বিরুদ্ধে মাদক ও জুয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মানববন্ধনের মাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে মানহানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

জমির বিরোধের বিষয়ে মঞ্জু জানান, কামারপাড়া মৌজার জেএল নং ১০৩-এর ১৭ নং খতিয়ানে ছুতির পুত্র উমেদ আলীর নামে সিএস খতিয়ানভুক্ত ১২২৩ দাগের ৪৪ শতক জমি ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডে ভুলবশত মোস্তানূর রহমান বুলেটের নামে এবং পরবর্তীতে বিআরএস রেকর্ডে মোস্তাফিজার রহমান রকেটের নামে অন্তর্ভুক্ত হয়। বৈধ প্রমাণ দেখাতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে জমিটি উমেদ আলীর ওয়ারিশ মঞ্জু গং ভোগদখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি সাবেক চেয়ারম্যান রোস্তম আলীসহ ১৩ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ভুল রেকর্ডের সুযোগ নিয়ে রকেটের কাছ থেকে দলিল তৈরি করে তাঁদের ওপর নির্যাতন শুরু করেন।

অপরদিকে, শাহানাজের শ্বশুর হবিবর রহমান আকন্দের কামারপাড়া মৌজার ১৩০ খতিয়ানভুক্ত ৭ একর ৪৬ শতক জমির চার আনা অংশ এসএ রেকর্ডে ভুলবশত মোস্তাফিজুর রহমান রকেটের নামে আসে। এ নিয়ে ২০১০ সালে দায়ের করা মামলায় (নং ৬৭/১০) শাহানাজের স্বামী ছানাউল ইসলাম ডিক্রি পান। পরবর্তীতে রোস্তম আলী আপিল করে হেরে যান এবং বর্তমানে তাঁর চাচাতো ভাই মোন্তাজ আকন্দের করা আপিলটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই জমি বিরোধে একের পর এক মামলায় হেরে ক্ষিপ্ত হয়েই রোস্তম আলী তাঁদের ওপর চড়াও হয়েছেন বলে দাবি ছানাউল ইসলামের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই ওই নারী মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। মারধরের ঘটনায় আমি জড়িত নই এবং ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কৃষকের সন্তান থেকে চিকিৎসক হওয়ার পথে শাকিল

সাঘাটায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে মা-মেয়েকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

Update Time : ০৯:৩১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, সাঘাটা :

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বাজিতনগর গ্রামে জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে শাহানাজ বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে শাহানাজ বেগম ও তাঁর মেয়ের ওপর দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। প্রথম দফায় শাহানাজের মাথায় ছুরিকাঘাত ও পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় তাঁর মেয়েকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এসব ঘটনায় সাঘাটা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে (মামলা নং ৩১, তারিখ: ২৯ জুন ২০২৬ এবং মামলা নং ১৩, তারিখ: ১৫ আগস্ট ২০২৬)।

মামলার বাদী পক্ষের দাবি, আদালত থেকে জামিন না নিয়েই প্রধান অভিযুক্ত রোস্তম আলী আকন্দ এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা এবং আসামিদের গ্রেফতারে অনীহার কারণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার খরচ তোলার অজুহাতে রোস্তম আলীর লোকজন শাহানাজের বাড়ি থেকে হাঁস-মুরগি, ছাগল, সেচপাম্পের মোটর, টিউবওয়েল এবং বিদ্যুৎ সংযোগের তার পর্যন্ত লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আরও একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া শাহানাজ ও তাঁর ভগ্নিপতি মঞ্জুর বিরুদ্ধে মাদক ও জুয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মানববন্ধনের মাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে মানহানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

জমির বিরোধের বিষয়ে মঞ্জু জানান, কামারপাড়া মৌজার জেএল নং ১০৩-এর ১৭ নং খতিয়ানে ছুতির পুত্র উমেদ আলীর নামে সিএস খতিয়ানভুক্ত ১২২৩ দাগের ৪৪ শতক জমি ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডে ভুলবশত মোস্তানূর রহমান বুলেটের নামে এবং পরবর্তীতে বিআরএস রেকর্ডে মোস্তাফিজার রহমান রকেটের নামে অন্তর্ভুক্ত হয়। বৈধ প্রমাণ দেখাতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে জমিটি উমেদ আলীর ওয়ারিশ মঞ্জু গং ভোগদখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি সাবেক চেয়ারম্যান রোস্তম আলীসহ ১৩ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ভুল রেকর্ডের সুযোগ নিয়ে রকেটের কাছ থেকে দলিল তৈরি করে তাঁদের ওপর নির্যাতন শুরু করেন।

অপরদিকে, শাহানাজের শ্বশুর হবিবর রহমান আকন্দের কামারপাড়া মৌজার ১৩০ খতিয়ানভুক্ত ৭ একর ৪৬ শতক জমির চার আনা অংশ এসএ রেকর্ডে ভুলবশত মোস্তাফিজুর রহমান রকেটের নামে আসে। এ নিয়ে ২০১০ সালে দায়ের করা মামলায় (নং ৬৭/১০) শাহানাজের স্বামী ছানাউল ইসলাম ডিক্রি পান। পরবর্তীতে রোস্তম আলী আপিল করে হেরে যান এবং বর্তমানে তাঁর চাচাতো ভাই মোন্তাজ আকন্দের করা আপিলটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই জমি বিরোধে একের পর এক মামলায় হেরে ক্ষিপ্ত হয়েই রোস্তম আলী তাঁদের ওপর চড়াও হয়েছেন বলে দাবি ছানাউল ইসলামের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী আকন্দ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই ওই নারী মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। মারধরের ঘটনায় আমি জড়িত নই এবং ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।”