
ষ্টাফ রিপোর্টার:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বাজিতনগর এলাকাটি একটি শান্তিপূর্ণ গ্রাম। বীগত সময়ে ঝগড়া কলহ না থাকলেও বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ক্রোন্দ্রলে ধীরে ধীরে একধরনের ব্যক্তি আক্রোসে রুপান্তরিত হয়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এখানে। এখানে মূলত মুঞ্জু গংদের প্রভাব ও তাদের নানা ধরনের কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে এলাকাবাসী।
সরেজমিনের বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়। কিছুদিন পূর্বে ছোটো ছেলেদের মধ্যে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তারই প্রেক্ষিতে মুঞ্জু গংরা একটি দোকানে ও তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যপক ভাংচুর করে। পরে এঘটনায় দুই পক্ষকে নিয়ে একটি শালিশের আয়োজন হয়। সেখানে জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রোস্তম আলী ও তার বড় ভাই ঢাকায় বসবাসকারী শিল্পপতি জাহিদুর রহমান উপস্থিত থাকেন। ওই সালিশে দুপক্ষের ঝগরা বিবাদ মিমাংশার জন্য তিনিও কথা বলেন কিন্তু দু-পক্ষের কথায় মিমাংশায় না এসে বরং উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এক পর্যায়ে সালিশে আসা সকলের উপর হামলা চালায়, এসময় শিল্পপতি জাহিদুর রহমানের পেটে ছুড়িকাঘাত করতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরে। সেখান থেকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসাপাতল ও পরে ঢানায় নিয়ে তাকে চিকিৎসা করা হয়।
মুঞ্জু গংরা বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের যমুনা তীরবর্তী বাসিন্দা ছিলেন। একপর্যায়ে তাদের বাড়িঘর যমুনায় বিলীন হয়ে গেলে, মাথাগোজার ঠাই হিসেবে বাজিত নগরে অবস্থান নেয়, “মঞ্জুর দাবি এখানে তাদের দাদার বাড়ি”। এই এলাকার সম্ভ্রান্ত গোষ্টি আকন্দরা তাদেরকে থাকতে জায়গা ও কাজ দেয়। তখন থেকেই এখানেই তাদের বসবাস। কিন্তু ধীরে ধীরে মঞ্জুদের লোকবল বৃদ্ধি পায় এবং নিজেরদ পায়ে দাড়াতে শেখে। একারনে নিজেরাই একধরনের প্রভাব তৈরি করতে শুরু করে। তাদের মাঝে শিক্ষার আলো না থাকায় সামান্য বিষয় নিয়ে অহেতুক গন্ডগোল বাধিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার ও অশালিন কথা বার্তা বলে শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তোলে। একারনে স্থানীয় সচেতন মানুষগুলো মুখ ফিরিয়ে নিলেও মুঞ্জু গংদের আচরণের কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং আরো ব্যপরোয়া হয়ে উঠেছেন তারা। এসব কথা বলেন রুস্তম চেয়ারম্যান গংরা। তারা আরোও বলেন দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে তাদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে, তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ এনে শতাধিক মানুষের স্বাক্ষরীত একটি আদেন ডিআইজি রংপুর বরাবর দেয়া হয়েছে। ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। এছাড়া ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে সাঘাটা থানায় বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারা বলেন প্রশাসনের কাছে আমাদের বিনিত আবেদন, আমরা এই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মঞ্জু মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন। ওনারা খুব ভালো মানুষ, একটা ক্রিকেট খেলা নিয়ে এই গন্ডগোল শুরু হয়ে এখন কি একটা খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হইছে। তিনি আরো বলেন জাহিদুর রহমান একজন অত্যন্ত সৎ ও ভদ্র মানুষ, তার পেটে চাকু লাগার বিষয়টা ভিন্ন রকম, উনি গন্ডগোল মিমাংসার সালিশে এসেছিল কিন্তু রাতের অন্ধকারে কার চাকু তার পেটে লাগলো আমরা তার কিছুই জানিনা। তবে এসব অশান্তি দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।
এ বিষয়ে সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বাদশা আলম জানান, ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে তদন্ত করেছে এবং যেহেতু একটি পক্ষের ইনজুরি আছে এজন্য মামলাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তবে, আর যাতে ওই গ্রামে কোন ধরণের ঘটনা না ঘটে সেদিকে পুলিশের দৃষ্টি আছে।

Reporter Name 












