
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বের বহু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নিলেও অনুপস্থিত রয়েছেন তিন প্রভাবশালী নেতা— ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাঁদের অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রায় ১৩০ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম প্রথম দিকের অস্থায়ী বক্তা তালিকায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নিউইয়র্কে যাননি। তাঁর পরিবর্তে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর দেশটির প্রতিনিধিত্ব করছেন। মোদীর অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এবারের সাধারণ পরিষদে যোগ দেননি। রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব মূলত লাভরভকেই করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাধারণ বিতর্কে অংশ না নিলেও বেইজিং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব বজায় রেখেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তবে শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— তিনি একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বেইজিং ত্যাগ করেন। ফলে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত থেকেও জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে সরাসরি অংশ না নেওয়ার বিষয়টি বিশেষ নজর কাড়ছে।
মোদী, পুতিন ও শি— তিন নেতার অনুপস্থিতির পেছনে একই কারণ রয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোও তাঁদের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি। তবে তিন দেশই বিকল্প উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। ফলে এটিকে জাতিসংঘ বর্জন হিসেবে দেখার চেয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবর্তে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্বের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা অধিক সতর্ক ব্যাখ্যা বলে মনে করা হচ্ছে।
এমন এক সময়ে এই তিন নেতার অনুপস্থিতি ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোচনা চলছে। এবারের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্যও—“Restoring trust, managing transformation: A United Nations that delivers for all.”
বিশ্বের তিন বৃহৎ শক্তির শীর্ষ নেতারা সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও ভারত, রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘের মঞ্চে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব বজায় রেখেছে। তাই তাঁদের অনুপস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক তাৎপর্য বোঝার ক্ষেত্রে অধিবেশনের পার্শ্ববৈঠক, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Reporter Name 



















