Dhaka ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর নলকূপ আছে, পানি নেই দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত নওগাঁর হাজারো কৃষক ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি সাঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সাথে এমপি মমতাজের মতবিনিময় সভা পাকিস্তানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: শতাধিক প্রাণহানি, ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নিষিদ্ধ নেইমার: গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামছে সান্তোস পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি: ধর্মীয় স্থাপনায় হামলায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, শান্তির আহ্বান গাইবান্ধায় সাবেক সেনা সদস্যের সংবাদ সম্মেলন: জমি বিক্রি ও স্ত্রীর অপপ্রচারের প্রতিবাদ আজ কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী আবদুল আলীমের জন্মদিন ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ইরানের

টানা বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৬৫ Time View

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

মঙ্গলবার রাত থেকে টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে প্রধান সড়ক, হাসপাতাল চত্বর, অলিগলি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে সকাল থেকে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চলাচলে চরম বিপাকে পড়েন।

নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড় ও কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও মালামাল নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরে ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ড্রেন ও নগরীর খালগুলো দিয়ে দ্রুত নেমে যেতে না পারায় এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়। চরপাড়া মোড়ে জলাবদ্ধতার কারণে জামালপুর থেকে রোগী নিয়ে আসা আবুল বাশার জানান, মাত্র কয়েকশ মিটার পথ অতিক্রম করতে তাঁদের রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতাল চত্বরে পানি জমে থাকায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

নগরীর সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাহারা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টানা বৃষ্টিতে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে গেছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ পুরোপুরি বন্ধ। প্রতি বছর আমাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদে ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে প্রকল্পের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজে ধীরগতি ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই নাগরিকদের এই খেসারত দিতে হচ্ছে।

নগরীর সচেতন নাগরিকরা জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই সামান্য বৃষ্টিতে নগরী পানিতে ভেসে যায়। জলাবদ্ধতা দূর করতে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান সরকার বলেন, “ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। সকাল থেকেই আমি বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও পানি নিষ্কাশন কাজ তদারকি করছি। বহুতল ভবনের মালিকদের অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলা এবং ড্রেনের ওপর নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে অনেক জায়গায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করপোরেশনের কর্মীদের নিয়ে আমরা নালাগুলো পরিষ্কার করছি। আশা করি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর

টানা বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

Update Time : ১০:২৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

মঙ্গলবার রাত থেকে টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে প্রধান সড়ক, হাসপাতাল চত্বর, অলিগলি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে সকাল থেকে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চলাচলে চরম বিপাকে পড়েন।

নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড় ও কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও মালামাল নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরে ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ড্রেন ও নগরীর খালগুলো দিয়ে দ্রুত নেমে যেতে না পারায় এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়। চরপাড়া মোড়ে জলাবদ্ধতার কারণে জামালপুর থেকে রোগী নিয়ে আসা আবুল বাশার জানান, মাত্র কয়েকশ মিটার পথ অতিক্রম করতে তাঁদের রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতাল চত্বরে পানি জমে থাকায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

নগরীর সানকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাহারা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টানা বৃষ্টিতে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে গেছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ পুরোপুরি বন্ধ। প্রতি বছর আমাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদে ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে প্রকল্পের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নকাজে ধীরগতি ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই নাগরিকদের এই খেসারত দিতে হচ্ছে।

নগরীর সচেতন নাগরিকরা জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই সামান্য বৃষ্টিতে নগরী পানিতে ভেসে যায়। জলাবদ্ধতা দূর করতে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান সরকার বলেন, “ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। সকাল থেকেই আমি বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও পানি নিষ্কাশন কাজ তদারকি করছি। বহুতল ভবনের মালিকদের অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলা এবং ড্রেনের ওপর নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে অনেক জায়গায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করপোরেশনের কর্মীদের নিয়ে আমরা নালাগুলো পরিষ্কার করছি। আশা করি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”