Dhaka ১২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি ইমদাদুল হক মিলনকে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মাতলো একঝাঁক শিশু-কিশোর নলকূপ আছে, পানি নেই দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত নওগাঁর হাজারো কৃষক ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি সাঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সাথে এমপি মমতাজের মতবিনিময় সভা পাকিস্তানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: শতাধিক প্রাণহানি, ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নিষিদ্ধ নেইমার: গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামছে সান্তোস পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি: ধর্মীয় স্থাপনায় হামলায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, শান্তির আহ্বান গাইবান্ধায় সাবেক সেনা সদস্যের সংবাদ সম্মেলন: জমি বিক্রি ও স্ত্রীর অপপ্রচারের প্রতিবাদ আজ কিংবদন্তি লোকসংগীত শিল্পী আবদুল আলীমের জন্মদিন

পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন,আলোচনায় চুক্তিভিত্তিক এক সচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগিরই পদে ইস্তফা দিতে যাচ্ছেন বলে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ মহলে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই। শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। ইতিমধ্যে তিনি বঙ্গভবনের অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই স্থান খালি করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কাছে ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে পদত্যাগের বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। এতদিন এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও, সম্প্রতি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা এক সচিবের নাম আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা-এসব বিবেচনাতেই মূলত তাঁর নাম সামনে এসেছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে একেবারেই অবগত নই। তবে শূন্য পদে একাধিক নাম আলোচিত হওয়া স্বাভাবিক।’

মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে বিলম্ব হলে কিংবা পদ শূন্য হলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে; ওই অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন।

ব্যাকগ্রাউন্ড ও সাংবিধানিক বিধান

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। ওই সময় আন্দোলনকারীরা তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলে বঙ্গভবন ঘেরাও করলেও সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করার পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের আলোচনা আরও গতি পায়।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। অনুচ্ছেদ ৫৪ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।

যেহেতু সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই তাঁদের মনোনীত প্রার্থীই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়—কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যপক কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন,আলোচনায় চুক্তিভিত্তিক এক সচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা

Update Time : ০৩:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগিরই পদে ইস্তফা দিতে যাচ্ছেন বলে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ মহলে আর কোনো অনিশ্চয়তা নেই। শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। ইতিমধ্যে তিনি বঙ্গভবনের অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই স্থান খালি করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কাছে ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে পদত্যাগের বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। এতদিন এ পদের জন্য বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানসহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও, সম্প্রতি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা এক সচিবের নাম আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা-এসব বিবেচনাতেই মূলত তাঁর নাম সামনে এসেছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে একেবারেই অবগত নই। তবে শূন্য পদে একাধিক নাম আলোচিত হওয়া স্বাভাবিক।’

মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে বিলম্ব হলে কিংবা পদ শূন্য হলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে; ওই অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন।

ব্যাকগ্রাউন্ড ও সাংবিধানিক বিধান

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। ওই সময় আন্দোলনকারীরা তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলে বঙ্গভবন ঘেরাও করলেও সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করার পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের আলোচনা আরও গতি পায়।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। অনুচ্ছেদ ৫৪ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।

যেহেতু সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই তাঁদের মনোনীত প্রার্থীই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়—কে হতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যপক কৌতুহল তৈরি হয়েছে।