Dhaka ১২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে অনলাইন প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২ প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা সেতু: সমকালীন পাঠ ও কথামালা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিপিবির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ একটু উদ্যোগ ও চেষ্টা মানুষের জীবনে সফলতা এনে দিতে পারে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মেঘনায় ট্রলার ডুবি: দুই দিন পর ৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার, সন্ধান মেলেনি বাবার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাই মানুষের জীবনে স্বনির্ভরতা আনতে পারে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী গো-খাদ্য সংকট, বিপাকে গবাদি পশু খামারি ও মালিকরা জাতিসংঘে নেই মোদী-পুতিন-শি: তিন প্রভাবশালী নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা ১৬তম বিজেএস-এ দেশসেরা গাইবান্ধার আরিফ উল করিম সিয়াম করতোয়া নৌ ট্র্যাজেডির ৪ বছর: আজও কাঁদছে নদী পাড়ের মানুষ

পঞ্চগড়ে করতোয়ায় নৌ ট্র্যাজেডির চার বছর: স্বজনহারাদের কান্না আজও থামেনি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২ Time View

সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড়:

দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল চারটি বছর। কিন্তু পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া তীরের বাতাসে আজও যেন ভেসে বেড়ায় স্বজনহারাদের বুকফাটা আর্তনাদ। ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দেবীপক্ষের সূচনা তথা মহালয়ার দিনে মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাটে ঘটেছিল দেশের অন্যতম ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা। সেই মর্মান্তিক স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে করতোয়াপাড়ের মানুষকে।

সেদিন ভোর থেকেই করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল। সবার গন্তব্য ছিল নদীপারের ঐতিহাসিক বদেশ্বরী মন্দির। দুপুরে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে ঘাটে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক শত মানুষ। দুপুর ১টার দিকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাট থেকে কিছু দূর যাওয়ার পরই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বোঝাই নৌকাটি দুলতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে মাঝনদীতে উল্টে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার প্রথম দিনেই উদ্ধার হয় ২৪ জনের মরদেহ। এরপর টানা কয়েক দিন ধরে চলে উদ্ধার তৎপরতা। পঞ্চগড় ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলার নদীসীমানা থেকেও মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৪৭ দিন পর সর্বশেষ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় প্রাণ হারানোদের সিংহভাগই ছিলেন নারী ও শিশু।

জেলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডির পরই করতোয়া নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি ওঠে। নৌ ট্র্যাজেডির দুই বছর পর ২০২৪ সালে নদীর ওপর দুটি পৃথক সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা এখন অনেকটাই দৃশ্যমান। বর্তমানে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় দ্রুত এগিয়ে চলছে নির্মাণকাজ। তবে এখনো প্রতিদিন নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে। নদীপারের মানুষের একটাই দাবি—দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সেতু দুটির কাজ দ্রুত শেষ করে যেন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে অনলাইন প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

পঞ্চগড়ে করতোয়ায় নৌ ট্র্যাজেডির চার বছর: স্বজনহারাদের কান্না আজও থামেনি

Update Time : ০৪:২৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড়:

দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল চারটি বছর। কিন্তু পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া তীরের বাতাসে আজও যেন ভেসে বেড়ায় স্বজনহারাদের বুকফাটা আর্তনাদ। ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দেবীপক্ষের সূচনা তথা মহালয়ার দিনে মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাটে ঘটেছিল দেশের অন্যতম ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা। সেই মর্মান্তিক স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে করতোয়াপাড়ের মানুষকে।

সেদিন ভোর থেকেই করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল। সবার গন্তব্য ছিল নদীপারের ঐতিহাসিক বদেশ্বরী মন্দির। দুপুরে মহালয়ার চণ্ডীপাঠ ও পূজা-অর্চনায় অংশ নিতে ঘাটে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক শত মানুষ। দুপুর ১টার দিকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাট থেকে কিছু দূর যাওয়ার পরই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বোঝাই নৌকাটি দুলতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে মাঝনদীতে উল্টে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার প্রথম দিনেই উদ্ধার হয় ২৪ জনের মরদেহ। এরপর টানা কয়েক দিন ধরে চলে উদ্ধার তৎপরতা। পঞ্চগড় ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলার নদীসীমানা থেকেও মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৪৭ দিন পর সর্বশেষ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় প্রাণ হারানোদের সিংহভাগই ছিলেন নারী ও শিশু।

জেলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডির পরই করতোয়া নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি ওঠে। নৌ ট্র্যাজেডির দুই বছর পর ২০২৪ সালে নদীর ওপর দুটি পৃথক সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা এখন অনেকটাই দৃশ্যমান। বর্তমানে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় দ্রুত এগিয়ে চলছে নির্মাণকাজ। তবে এখনো প্রতিদিন নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে। নদীপারের মানুষের একটাই দাবি—দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সেতু দুটির কাজ দ্রুত শেষ করে যেন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।