
তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারে টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে হাকালুকি ও কাউয়াদীঘি হাওরের পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, কাশিমপুর পাম্প হাউজের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব এবং সব সেচ পাম্প নিয়মিতভাবে সচল না থাকায় হাওরের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে ফসল ডুবে গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, নিয়মিতভাবেই সেচ কার্যক্রম চলেছে।
এদিকে শ্রমিক সংকট, টানা বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের ভয়ে অনেক কৃষক এখনো মাঠে নামতে পারছেন না ধান কাটতে। ফলে ধান কাটা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সবজি ও আউশ ধানের বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, মৌলভীবাজারে মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলেই প্রায় ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমি রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৯৭ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। বৃষ্টি কমলে ধান কাটার কাজ দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে জেলার নদ-নদীগুলোর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবে মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
আবহাওয়া ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে জেলায় ঝড়বৃষ্টির কারণে খাল-নালা উপছে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শহরের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে এবং কিছু বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও সড়ক প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওর ও নদীগুলোতে পানি বাড়লেও এখনো বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, হাওরে পানি কিছুটা বেড়েছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কাশিমপুর পাম্প হাউজসহ সেচ কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে বলে তিনি জানান।

Reporter Name 
























